সামাজিক মাধ্যমের প্রতিষ্ঠাতারাই ‘অসামাজিক’!
নিজেরা স্বভাবে অন্তমূর্খী এবং লাজুক। এক কথায় শুরুর জীবনে নিজেদেরকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতেন। এক কথায় বলা যায় ‘অসামাজিক’ ছিলেন। কিন্তু তারপরও ডিজিটাল দুনিয়ায় সবাইকে সামাজিক করার অভিযানে নেমে সফল হয়েছেন তারা।
সর্বশেষ বাইটডান্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় দেয়া বক্তব্যের মাধ্যমে এ তালিকার ষোলকলা পূর্ণ করেন টিকটকের প্রতিষ্ঠাতা ঝাং ইমিং। তার ভাষ্য, তিনি খুব একটা সামাজিক নন। একা করা যায়, এমন কাজেই বরং বেশি আগ্রহী।
অথচ টিকটকের মতো বিশাল এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষকে সামাজিক করার অভিযানে সফল তিনি।
তেমনি স্বভাব সুলভে সামাজিক না হয়েও দারুণ জনপ্রিয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গও। তাকে নিয়ে ২০১০ সালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে ফেসবুকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) শেরিল স্যান্ডবার্গ বলেছিলেন, মার্ক বেশ লাজুক এবং অন্তর্মুখী। অপরিচিত লোকের সান্নিধ্যে তাকে প্রায়ই বেশ শীতল মনে হয়।
একই রকম স্বভাবের ইনস্টাগ্রাম, টুইটার, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট থেকে শুরু করে পিন্টারেস্টের সহপ্রতিষ্ঠাতারাও।
এদের মধ্যে টুইটার সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসিকে দেখে লাজুক মনে না হলেও শৈশবে তোতলামির জন্য খুব কম কথা বলতেন তিনি। যতটা সম্ভব একা থাকতেন। অবশ্য ধীরে ধীরে তা কাটিয়ে ওঠেন। অবশ্য তার এই কম কথা বলার ছাপ কিন্তু রয়ে গেছে টুইটের নির্দিষ্ট ক্যারেক্টারে।
আর তরুণদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম স্ন্যাপচ্যাটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ইভান স্পিগেল তো এখনো অনেকের কাছেই খুব একটা পরিচিত মুখ নন। কারণ, তিনি পাদপ্রদীপের আলোয় আসতে চান না।
একইভাবে ছবি শেয়ারের প্লাটফর্ম তৈরি করেও ক্যামেরার ফ্রেমের ভেতর থাকার চেয়ে পেছনে থাকতেই বেশি পছন্দ করেন ইনস্টাগ্রামের সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইক ক্রিগার। ইনস্টাগ্রামে তার অ্যাকাউন্ট থাকলেও সেখানে নিজের ছবির চেয়ে সেটা পোষা কুকুর জুনো আর প্রকৃতির ছবিতে থাকে ঠাসা।
অন্তর্মুখী বলেই হয়তো পিন্টারেস্ট প্রতিষ্ঠা করেছেন বলে মনে করেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির সহপ্রতিষ্ঠাতা বেন সিলবারম্যান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একটা মজার ব্যাপার হলো, অনেক মানুষ ইন্টারনেট-নির্ভর প্রতিষ্ঠান দাঁড় করান। কারণ, তারা কিছুটা অন্তর্মুখী। যখন তারা খুবই ভালো করেন, তখন তারা মুখোমুখি হন বহির্মুখী দুনিয়ার সঙ্গে। এই অভিজ্ঞতা অদ্ভুত।
সিলবারম্যানের বক্তব্যের মধ্যে এটুকু প্রমাণ মিলিছে একটা সময়ের অন্তর্মুখী বা অসামাজিক সময় কিন্তু দারুণ সব উদ্ভাবনের জন্ম দেয়। এই অন্তর্মূখীতাই একসময় বহির্বিশ্বে এনে দেয় যশ ও খ্যাতি।